খুলনা, বাংলাদেশ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
  কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরাম, রাজশাহীর নতুন কমিটি অনুমোদন
  জালালাবাদে ক্ষুদে ফুটবলার নয়ন ঢাকা ফুটবল লীগে সুযোগ পেল

সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদ ডুমুরিয়ার শাহপুর-দৌলতপুর সড়ক: চরম ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

[ccfic]

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা )

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাহাপুর-দৌলতপুর (মহসিন রোড) সড়কটি এখন যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন কোনো প্রকার সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরো রাস্তায় তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার আকার ধারণ করে, আর শুকনা মৌসুমে ওড়ে ধুলাবালি। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করছেন হাজার হাজার যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহন।জনজীবনে চরম ভোগান্তি স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক শাহাপুর গ্রামের সালাউদ্দিন ও রাশেল গাজী আক্ষেপ করে বলেন,”শাহপুর টু মহসিন রোডের পুরোটাই প্রায় এমনই জরাজীর্ণ। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা এখন রীতিমতো শাস্তি। অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী মায়েদের এই রাস্তায় হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটির স্থায়ী সংস্কার চাই।”সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহপুর থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং সম্পূর্ণ উঠে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ডুমুরিয়ার এই অঞ্চলটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত সবজি ও মাছ এই পথেই খুলনার মূল শহর ও দৌলতপুর মোকামে নিয়ে যাওয়া হয়। রাস্তা ভাঙা হওয়ার কারণে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে সবজি ও পণ্যবাহী যান। এতে একদিকে যেমন যাতায়াত খরচ ও সময় দ্বিগুণ লাগছে, অন্যদিকে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।স্থানীয় ভ্যানচালক রহিম মিয়া বলেন, “রাস্তার যে অবস্থা, প্রতিদিন গাড়ির পার্টস ভেঙে যায়। আয়ের চেয়ে গাড়ি মেরামতের খরচই বেশি। এই রাস্তাটা দেখার যেন কেউ নেই।”এলজিইডি প্রকৌশলীর বক্তব্য সড়কটির এই জরাজীর্ণ দশা এবং জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ডুমুরিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) প্রকৌশলী দারুল হুদার কাছে। সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।সড়কের বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী দারুল হুদা বলেন,”আমরা জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি পুরোপুরি অবগত আছি। আসলে এই সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি রুট। অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল এবং গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে সড়কের বেশ কিছু অংশের পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সাময়িকভাবে জনসাধারণের চলাচলে বেশ অসুবিধা হচ্ছে।”জরুরি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি জানান,”আমরা ইতিমধ্যেই এই সড়কটির বর্তমান চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাক্কলন (Estimate) তৈরি করেছি। সড়কটি সম্পূর্ণ নতুন করে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে টেকসই টেকনোলজিতে সংস্কার করার জন্য একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাবনা (DPP) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।”মূল কাজ শুরু হওয়ার আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৌশলী দারুল হুদা বলেন,”জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা খুব দ্রুতই এই সড়কের বড় বড় খানাখন্দগুলোয় ইট-খোয়া ফেলে অস্থায়ীভাবে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নিচ্ছি। জরুরি মেইনটেন্যান্স ফান্ডের মাধ্যমে এই আপদকালীন সংস্কার কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে, যাতে অন্তত যানবাহনগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে। মূল প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই আমরা স্থায়ী টেকসই কাজ শুরু করতে পারব। আমরা এলজিইডির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, “শাহপুর-দৌলতপুর সড়কটির বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের যে কষ্ট হচ্ছে, তা আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। এলজিইডির মাধ্যমে দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, জনস্বার্থে অতি দ্রুত এই সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।”ডুমুরিয়াবাসীর দাবি, আর কোনো শুধু আশ্বাস বা জোড়াতালির মেরামত নয়; খুলনার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শাহপুর-দৌলতপুর সড়কটি যেন দ্রুত এবং টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এই বিষয়ে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT